
মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি : নাতি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হবার খবরে পেয়ে স্ট্রোক করে দাদির মৃত্যু হয়েছে বলে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর কান্দাইল গ্রামে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মাধবদীর কান্দাইল মোল্লা পাড়া গ্রামের অলি উল্লাহ মিয়ার ছেলে মোঃ ওয়াসিম মিয়া (৩৫), আখালিয়া গ্রামের মুন্না মিয়া(১৮), কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার জাকির হোসেন এর ছেলে ইমন হোসেন(২৪), নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারের পুরিন্দা গ্রামের মোঃ কামাল হাজ্বী (৪৫), টেকপাড়া গ্রামের লিটন হাজ্বী(৪২) ও একই গ্রামের আঃ আজিজ(৩৮) এবং সাতগ্রামের এনামুল হোসেন(৩০)।
জানা যায়, কান্দাইল গ্রামের ওয়াসিম মিয়া (৩৫) তার নোহা প্রাইভেটকারে যাত্রী নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে মাধবদী আসার পথে বিকেল চারটার দিকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মরজাল এলাকায় পৌঁছালে নরসিংদী থেকে শিবপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ওয়াসিমের গাড়িটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। একই সময়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী অপর একটি যাত্রীবাহী বাস উক্ত প্রাইভেটকারটিকে আরেকটি ধাক্কা মারে । দুটিগাড়ির ধাক্কা ও চাপে প্রাইভেটকারটি ধুমরে মুচরে যায়। ফলে গাড়ির চালক মোঃ ওয়াসিম মিয়াসহ গাড়িতে থাকা অপর ৮ জনের মধ্যে ৭জনই মারাত্মকভাবে জখম হয়। এদের মধ্যে কারো হাত,কারো পা, কারো মাথায় বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয় । দুর্ঘটনা খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভার কেয়ার ও অন্যান্য হসপিটালে প্রেরণ করে।এদের মধ্যে গাড়ির যাত্রী হাজী কামাল হোসেন (৪৫) ও চালক ওয়াসিম মিয়াকে ঢাকার এভার কেয়ার হসপিটাল এ নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার কামাল হোসেন’কে লাইফ সাপোর্ট ইউনিটে ভর্তি করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওয়াসিমকে পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন বলে জানাগেছে।
এদিকে এই ঘটনার খবর ওয়াসিম মিয়ার গ্রামের বাড়ি মাধবদীর কান্দাইল গ্রামে পৌঁছালে তার বয়োবৃদ্ধ দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত দুইটার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নাতির এই সংকটাপন্ন অবস্থায় দাদীর মৃত্যু যেনো ওয়াসিমের পরিবার ও এলাকাবাসীকে স্তব্দ করে দিয়েছে। কান্না আর আহাজারিতে গ্রামে শোক ও হতাশার কালো ছায়া নেমে আসে। হৃদয়বিদারক এমন ঘটনায় গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে। ওয়াসিমের গাড়ির যাত্রী আহত ইমনের(২৪) সাথে কথা বললে তিনি জানান, হবিগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে তাদের প্রাইভেটকারটি মরজাল এলাকায় পৌঁছালে প্রথমে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস রং সাইটে গিয়ে সজোরে তাদের গাড়িটিকে ধাক্কা মারে, একই সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর আরেকটি যাত্রীবাহি বাস তাদের গাড়িটিকে আরেকটি ধাক্কা মারে। দুটি গাড়ির ধাক্কায় তাদের গাড়িটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা ড্রাইভার সহ ৯ জন ব্যক্তির মধ্যে ৭ জন মারাত্মক আহত হয়। যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে, স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হসপিটালে প্রেরণ করে।