
সুমন পালঃ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বাগবাড়ি বাজার সংলগ্ন সত্তর দশকের একটি ঐতিহ্যবাহী খাল কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির অবৈধ দখলের বলি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও দখল করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কান্দাপাড়া, রাইনাদী, নওপাড়া, খোর্দ্দনওপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ স্থায়ী পানিবন্দি দশায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ফসলি জমি ও শিল্প কারখানা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওসমান গণি, খোরশেদ, নাজু, রবিউল, কাজল মেম্বার সহ কয়েকজন বাগবাড়ি বাজার কালভার্টের নিচে ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে দেয়। খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকায় কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও সাধারণ মানুষের বসতঘর। বিশেষ করে মহাসড়ক ও বাজার সংলগ্ন হওয়ায় এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানাও পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে প্রতি বছর কৃষকদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং কলকারখানা বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। খালের বিশাল অংশ জুড়ে এখন শুধু ঘন কচুরিপানা, জংলি গাছপালা এবং বুনো কচুগাছের জঙ্গল। কোথাও কোথাও খালের ওপর টিনের ঘর ও অবৈধ স্থাপনা তুলে পানি চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করা হয়েছে। বাগবাড়ি বাজার ও মহাসড়ক সংলগ্ন খালের একটি বড় অংশকে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে, যা আশপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ত্রাণ নয়, স্থায়ী মুক্তি চায় এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরম ভোগান্তি থেকে স্থায়ী মুক্তি চান ভুক্তভোগী ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ। কান্দাপাড়া ও রাইনাদীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি—বর্তমান প্রশাসন যেন অতি দ্রুত এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে, ঐতিহ্যবাহী খালটি পুনঃখনন করে এবং পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রক্ষা করে।