সুমন পালঃ
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সংকটাপন্ন এক প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে নিজের রক্ত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আনসার ও ভিডিপির উপজেলা প্রশিক্ষক রুহুল আমিন। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল এগারোটার দিকে সন্তান প্রসবের ব্যথাজনিত শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের নলোয়া গ্রামের রুমা আক্তার (২৫) নামের এক প্রসূতি। উক্ত প্রসূতি নারীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। তাহার ৩য় সিজার হওয়ায় রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় এবং চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিক জরুরি ভিত্তিতে ৩ব্যাগ 'ও’ পজিটিভ' (O+) রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে রক্তের খোঁজে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হন্যে হয়ে ছোটোছুটি করতে থাকেন রোগীর অসহায় স্বজনরা। কোথাও তাৎক্ষণিক রক্তের ব্যবস্থা করতে না পেরে পরিবারটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন চালাকচর ইউনিয়নের দলনেতা মোঃ আশরাফুল ইসলাম। রোগীর স্বজনদের এই চরম আকুলতা ও অসহায়ত্ব দেখে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম। নিজের রক্তের গ্রুপ না মিলায় তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা প্রশিক্ষক রুহুল আমিনকে বিষয়টি অবগত করেন। উপজেলা প্রশিক্ষক বিষয়টি আমলে নিয়ে নিজের রক্ষের গ্রুপের সাথে মিলে যাওয়ায় কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি প্রসূতি রুমা আক্তার (২৫) কে রক্তদান করেন। উপজেলা প্রশিক্ষক রুহুল আমিনের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও মানবিক সহায়তায় সময় মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় এবং সন্তান জন্মদানে মায়ের জীবন রক্ষা পায়। এই ঘটনার পর রোগীর ছোট বোন মোছাঃ হাফছা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "সংকটাপন্ন মুহূর্তে যখন রক্ত দিতে কেউ এগিয়ে আসেনি, তখন এই মানবিক উপজেলা প্রশিক্ষক মানবতার দূত হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।" তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।